আও মারামারী থেকে দুরই থাকি

নির্লজ্জ্বতাই যেন ওদের চরিত্রের মূল বৈশিষ্ট্য ! - দয়া করে পড়বেন বিয়ের মাত্র পাঁচমাসেই সম্পূর্ণ সুস্থ সন্তানের জন্ম! খবরটি পড়েই উৎসাহী হয়েছি নিজের প্রফেশনের কারণে। বিস্তারিত জানার চেষ্ঠা করলাম। ১৭এপ্রিল ২০১৪ তারিখে বিয়ে আর ২২সেপ্টেম্বর ২০১৪ বাচ্চার মা! সব মিলিয়ে মাত্র ৫মাস! এরপরও গর্ভধারনের কয় সপ্তাহ হলো তা বুঝার চেষ্ঠা করলাম। পাঁচমাস পর গর্ভের ভিতর বাচ্চা কোন অবস্থায় পৌঁছে তা আবার মনে করার চেষ্ঠা করলাম। আমাদের হিসাবে কোন ভাবেই মিলে না! তথাকথিত প্রগতিশীল ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের হিসাব আলাদা! ওদের মতে বিয়ে-শাদী ওসব ব্যাকডেটেড ও মৌলবাদী কালচার! তথাকথিত প্রগতিশীলরা লিভটুগেদার করবে, যত ইচ্ছা তত জন সঙ্গী থাকবে, বাচ্চা পরিচিত হবে শুধু মায়ের পরিচয়ে! বিয়ে-টিয়ে এসব নানা ঝামেলা! প্রগতি বিরোধী! তাই বিয়ের পাঁচমাস কেন, পাঁচসপ্তাহ পরও বাচ্চার জন্ম হলেও কোন অসুবিধা নেই! আমাদের দেশের নাটক-সিনেমা-মিডিয়ায় যাদের বিচরণ তাদের একেক জনের জীবন নানা পংকিলতায় ভরপুর। শুধু যে ওদের ভিতরে আছে তা নয় নানা রকম পংকিলতা ওরা ছড়িয়ে দিচ্ছে সর্বক্ষেত্রে। আর তাদের পিছনে আছে আধুনিকতার নামে, প্রগতিশীলতার নামে, নারী অধিকারের নামে দেশের প্রায় সকল মিডিয়া, তথাকথিত মানবাধিকার ও নারীবাদীরা! এখন বিয়ের আগে কয়েকজনের সাথে মেলামেশা খুবই সাধারণ ব্যাপার। শুধু তাই নয় বিয়ের আগে স্বামী-স্ত্রীর মতোই সম্পর্কে জড়িয়ে যাচ্ছে অনেকেই! তবে এখনও বিয়ের আগে সন্তার ধারণ করা সবাই লুকাতে চায়। তার পরিণতিতে হাসপাতালগুলোতে দেখা যায় অনেককেই, যারা আসে নিজের জীবনের নষ্টামি লুকাতে! ডাস্টবিন, ড্রেনে পাওয়া যায় সদ্যপ্রসূত বাচ্চার লাশ। এর অন্যতম কারণ আমাদের সমাজ এখনও বিবাহবহির্ভূত গর্ভধারণ বা যৌনসম্পর্ককে অস্বাভাবিক, অসামাজিক, অবৈধ, লজ্জ্বার মনে করে। অনৈতিকতার খপ্পড়ে পড়ে যারা এসবে লিপ্ত হয় তারাও তা মনে করে। কিন্তু কিছু কিছু মিডিয়া ও মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব সেইসব নষ্টামিকে যেন স্বাভাবিক মনে করে নিয়েছে। এমন একজন হলেন তথাকথিত অভিনেত্রী ফারজানা ছবি। বিয়ের ঠিক পাঁচমাসের মাথায় তিনি বাচ্চার মা এবং তা আনুষ্ঠানিক ভাবে সবাইকে জানাচ্ছে এমনকি নিজের ফেইসবুকেও বাচ্চা সহ ছবি প্রকাশ করেছে! এই শিশুর গর্ভধারণ যে তথাকথিত বিয়ের আগেই তা নিশ্চিত (এ অবস্থায় বাচ্চাটির পিতা ওই অভিনেত্রীর কথিত স্বামী কিনা সে প্রশ্নও তোলা যায়, কারণ বিবাহ নাকি পারিবারিক পছন্দে হয়েছিল)। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক হচ্ছে বিয়ের আগে সন্তানধারণ করা ওই অভিনেত্রী ও তার কথিত স্বামীর ভিতর লজ্জ্বার কোন লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না! বিষয়টি উল্লেখ করার অর্থ এই নয় যে বাচ্চাটি নষ্ট করে ফেলা উচিত ছিল। না ওই বাচ্চার তো কোন দোষ নেই। কিন্তু ওই ধরনের একটি বাচ্চার মা হওয়ার পর যে লজ্জ্বা পাওয়ার কথা সেটি ওই অভিনেত্রী পাচ্ছে না, তার স্বামীও না! বরং তারা এমন আচরণ করছে যেন এটি খুবই স্বাভাবিক এবং মিডিয়াগুলোও বিষয়টিকে স্বাভাবিক বিষয় আকারেই প্রকাশ ও প্রচার করছে! এটিই হচ্ছে সবচেয়ে ভয়ের বিষয়। এখন একজনের লজ্জ্বাবোধ ধ্বংস হয়েছে এরপর আরো অনেকের হবে কারণ ওই তথাকথিত অভিনেতা-অভিনেত্রীদের আদর্শ মনে করে এমন তরুণ-তরুণীর সংখ্যা আস্তে আস্তে বাড়ছে এবং তথাকথিত সুশীল মিডিয়াগুলোও ওদেরকে আদর্শ হিসেবেই উপস্থাপন করছে! পোষাক, পরিচ্ছেদ, জীবন-যাপন, মেলামেশা ইত্যাদিতে অনেকের স্বাভাবিক লজ্জ্বাবোধও ধ্বংস হয়েছে। এখন অবৈধ, বিবাহবহির্ভূত সন্তান জন্মদান বিষয়ে থাকা লজ্জ্বাবোধ লুপ্ত হতে শুরু করেছে! ভবিষ্যতে ওইসব অভিনেত্রীদের মতো আরো অনেকেই বিবাহ বহির্ভূত গর্ভধারণে জন্ম নেয়া সন্তানের ছবি শেয়ার ও প্রচার আশ্চর্য হতে হবে না! কারণ ওদিকেই যে নূতনপ্রজন্মকে ডাকা হচ্ছে তথাকথিত আধুনিকতা, সংস্কৃতি ও ধর্মনিরপেক্ষতার নামে… ( সংগ্রহীত )