Chittagong University Reading Club (CURC)

Chittagong University Reading Club (CURC) এর উৎপত্তি ও বিকাশ কিভাবে?
এভাবে পাবলিকলি ‘রিডিং ক্লাব’ মেথডটা এসেছে মূলতঃ প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালইয়ের কিছু স্বপ্নবাজ, সত্যিকার দেশপ্রেমিকের হাতে গড়া DURC থেকে। পরবরতীতে রাজশাহী এরপর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, সবশেষে সবুজে ঘেরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (এত দেরী হওয়াটা লজ্জাস্কর বটে!) প্রথমে অনলাইনে, পরে ওপেনলি আত্মপ্রকাশের পথে। অন্য ক্লাবগুলোর কার্যক্রম দেখার জন্য ……
CURC এর আইডল কে?
পৃথিবীর যে কোন প্রান্তের যে কোন জ্ঞানী-গুণী, দার্শনিক, প্রবক্তা ও তাঁদের জ্ঞানগর্ভ আলোচনা, সমালোচনা, আত্মজৈবনিক এসব ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রিডিং ক্লাবের’ চলার পাথেয়। ধরুন, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে জাতীয় অধ্যাপক আব্দুররাজ্জাক, ড.মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, আহমদ ছফা, মোতাহের হোসেন, কাজী আব্দুল ওদুদ, আবুল ফজল, আবুল মনসুর আহমদ এরা আমাদের প্রাণপুরুষ। আমরা আহমদ শরীফের বাঙ্গালি মুসলমানের ইতিহাস’ বিষয়ক গবেষণা, হুমায়ুন আজাদের ‘বাঙালা ভাষার ইতিহাস’কে যেমন গুরুত্ব দিই, তেমনি আল-মাহমুদের ‘সোনালি কাবিন’, মান্নান সৈয়দের গবেষণা, ফররুখের কবিতাকেও অবশ্যপাঠ্য মনে করি।
CURC এর মিশন কি?
“পাঠ ও গবেষণা নির্ভর একটি তরুণসমাজ গড়ে তোলা, যাদের কাজ হবে পড়া আর পড়া, কোন বই পেলেই পড়ে ফেলা”। এমন কি এটা আমাদের জাতীয় অভ্যাসে পরিণত করা। এটা কিন্তু ‘তাকিয়ে তাকিয়ে নভেল পড়া’ নয়, সিরিয়াস স্টাডি। সমাজ, রাষ্ট্র, মানুষ, মানবতা, ইতিহাস, দর্শন এগুলোর অগাধ জ্ঞান, সাফল্য ব্যর্থতা এসব বিষয়ে নিবিষ্ট পাঠ নেয়া একজন রিডারের প্রধান ও মৌলিক দায়িত্ব।পছন্দ-অপছন্দের স্বাধীনতা রিডারের রয়েছে। রাষ্ট্রের বৃহৎ কর্মযজ্ঞের একটি দার্শনিক ভিত্তি আছে। এগুলো নিয়ে কথা বলেন ইন্টেলেকচুয়ালগণ।রিডিং ক্লাব তরুণ ইন্টেলেকচুয়্যালদের নিয়ে কাজ করবে। এরাই ভবিষ্যতে বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্ব দিবে।
কিভাবে হবে এই কাজ?
আমাদের প্রস্তাব হলো, একজন রীডার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মৌলিক টেক্সটগুলোর ১০,০০০ পৃষ্ঠা পড়ে ফেলবে। (ভয় পাওয়ার কারণ নেই, ৩০০ পৃষ্ঠার ৩৩ টা বই পড়লেই ১০০০০ হয়ে যায়।) আমাদের কাছে রিডিং একটি সিরিয়াস বিজনেস। যখন ইচ্ছা পড়লাম, ইচ্ছে হলেই রাখলাম, অনিয়মিত বেশী পড়লাম-এমন হলে চলবে না। রিডার সচ্ছল না হলেও নিয়মিত লাইব্রেরীমুখি হতে হবে তাকে। লাইব্রেরীওয়ার্কটা তার লাইফস্টাইল হয়ে যেতে হবে। রাষ্ট্রপর্যায়ের বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্বের পূর্বশর্ত হলো সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অগাধ জ্ঞানার্জন।এটি কঠিন কাজ, সবাই এ গুরুভার বহনও করতে পারে না। সুতরাং, যারা জাতির বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্বের হাল ধরতে চায়, তাদেরকে সাধনার মাধ্যমে নিজেকে যোগ্যতম হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এ দায়িত্বপালনের জন্য সাধনার পথ খুব নিঃসঙ্গ ও বৈচিত্রহীন, আবারো বলছি "নিঃসঙ্গ ও বৈচিত্রহীন"। কিন্তু রিডিং ক্লাবের কাজ হলো আপনার এই নিঃসঙ্গতাকে মুক্ত করে আপনাকে আনন্দ দেওয়া।
রিডিং ক্লাবের সাপ্তাহিক সভাঃ
আনুষ্ঠানিকভাবে একটি সাপ্তাহিক সভার আয়োজন করা হবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যেহেতু নানামুখী সমস্যা তাই আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকাকালীন চাকসুতে এবং শহরের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোন প্লেসে এই সভা বসবে। এই সভার নিয়ম হলো প্রতি সপ্তাহে একটি বিষয় ঠিক করা হয়। সেই বিষয়ের উপর গভীর অধ্যয়ন করে একজন বক্তা ৩০ মিনিটের একটি বক্তৃতা দেন। তারপর সেই বিষয়ের উপর অন্যান্য রিডারগণ তাদের সুচিন্তিত মতামত ব্যক্ত করেন। কোনো প্রশ্ন থাকলে সেটি উত্থাপন করেন। এরপর পুরো সভার আলোচনাটির সামারি করে সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই আনুষ্ঠানিক সভাটি। সভার ঘোষণা ফেসবুক পেজে ও এসএমএস এর মাধ্যমে জানানো হবে।